সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কুখ্যাত কমান্ডার আবু লুলুকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয় হয়েছেন। তবে আরএসএফ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল ফাশেরে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে গত বছরের শেষ দিকে আটক হওয়া আবু লুলু সম্প্রতি আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন। নয়টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে সক্রিয় লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
সূত্রগুলোর মধ্যে দুটি সরাসরি কমান্ডারটিকে আবু লুলু হিসেবে শনাক্ত করেছে। এছাড়া একজন সামরিক কর্মকর্তা জানান, এল ফাশেরে চলমান তীব্র সংঘর্ষে যোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে আরএসএফ নেতৃত্ব আবু লুলুকে পুনরায় মাঠে নামতে আহ্বান জানায়।
রয়টার্স জানায়, আবু লুলুর কথিত মুক্তি নিয়ে তারা মোট ১৩টি সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন আরএসএফ কমান্ডার, একজন আরএসএফ কর্মকর্তা, আবু লুলুর এক আত্মীয়, আরএসএফ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং গোষ্ঠীটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন ব্যক্তি।
তবে সোমবার এক বিবৃতিতে আরএসএফ আবু লুলুর মুক্তির খবরকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছে। গোষ্ঠীটি জানায়, এল ফাশেরে হামলার সময় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে আবু লুলুও এখনো হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে বিশেষ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
আরএসএফের ভাষ্য অনুযায়ী, “আবু লুলুর মুক্তি সংক্রান্ত দাবিগুলো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি হেফাজতেই আছেন এবং কখনও কারাগার থেকে বের হননি।”
উত্তর দারফুরের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল ফাশেরে ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আবু লুলুকে আটক করা হয়েছিল। ওই সময় অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাকে নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি। “এল ফাশেরের কসাই” নামে পরিচিত আবু লুলুর বিরুদ্ধে ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


