আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বাভাস

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কমতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কমতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ

দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং বর্তমানে সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের স্থায়িত্ব ও ভৌগোলিক বিস্তারের ওপর। সংঘাত স্বল্পমেয়াদি হলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকট সৃষ্টি হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। রেমিট্যান্স–সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, স্বল্পমেয়াদে দেশের প্রবাসী আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই আয়ের ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ওপর। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক থাকার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ উচ্চ পর্যায়ে থাকলেও, অভিবাসনে বিঘ্ন এবং স্বাগতিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের স্থায়িত্ব ও বিস্তারের ওপর। সংঘাত স্বল্পমেয়াদি হলে এর প্রভাব সীমিত থাকবে; তবে দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকট দেখা দিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশে মোট ৮৬৭ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ।

এই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৩০ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সেখান থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ১১৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৯৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৪ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যাদের মধ্যে ১৮ হাজার ২২৫ জন নারী। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ৭৬ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া কাতার, সিঙ্গাপুর ও কুয়েতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক গেছেন।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এই সংকটের সরাসরি বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব রেমিট্যান্সে পড়েনি; বরং আগের তুলনায় প্রবাসী আয় কিছুটা বেড়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন