ভারতে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন চার পুরুষ, তিন নারী ও দুই শিশুসহ নয় বাংলাদেশি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাড়ি নড়াইল, রাজবাড়ী, খুলনা ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগ পেয়ে তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, দেশে ভালো কাজের আশায় প্রায় আড়াই বছর আগে দালালের মাধ্যমে সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন তারা। পরে ভারতের দমদম এলাকায় বাসাবাড়ি ও ক্ষেত-খামারে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন।
তিনি জানান, কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন ওই নয় বাংলাদেশি। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। আদালতের রায়ের পর তারা ভারতের কারাগারে সাজা ভোগ করেন।
কারাভোগ শেষে একটি ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নেয়। পরে তাদের একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়। এ সময় দুই দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে শনিবার তারা দেশে ফেরার সুযোগ পান।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান আরো জানান, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশি নয়জনকে হস্তান্তরের পর বেনাপোল ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পরে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মুহিত হোসেন জানান, বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে নয় বাংলাদেশিকে গ্রহণ করে সংস্থার শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামীকাল রবিবার তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিরা জানান, ভালো কাজ ও উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে তারা নানা দুর্ভোগের শিকার হন। কারাভোগের পর শেল্টার হোমে থাকার সময় দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। অবশেষে দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করলে আইনগত জটিলতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন কারাভোগ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

