পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশই একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যাবে।
শনিবার সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে পররাষ্ট্রনীতি শুধু পররাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোও সমন্বিত হওয়া উচিত।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। ভারতকে বিষয়টি বুঝতে হবে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ভারত বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো কাজের সম্পর্ক প্রয়োজন। তবে দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে এখানে জায়গা দেবে না। এমনকি কোনো বৈধ ভারতীয় রাজনীতিক বাংলাদেশে এসে ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে ব্রিফিং করলে তাকেও সে ধরনের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে একটি দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি ব্যক্তি বা বেসরকারি ও সরকারি খাতের প্রশ্ন নয়; মূল প্রশ্ন হলো কোনো দেশের ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসী বা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না।
হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে তা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিরুদ্ধে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এটি একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, আগের শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে মানুষের ম্যান্ডেট না থাকায় দেশের ভেতরে ও বাইরে সরকারের প্রতি সম্মান কমে গিয়েছিল। ওই সময় মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল।
হুমায়ুন কবির বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর থেকে আরও আন্তর্জাতিক রুট চালুর চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে টার্কিশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে আলোচনা করে সিলেট থেকে ইস্তাম্বুলে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন এই রুট চালু হলে সিলেটের প্রবাসীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াত আরও সহজ হবে। ইস্তাম্বুলকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে তারা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

