উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে দুবাইভিত্তিক এমিরেটস গ্রুপের (এমিরেটস এয়ারলাইন ও ডানাটা) ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে গ্রুপটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
গ্রুপটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে গ্রুপটির নিট মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামে (১ বিলিয়ন ডলার)। এ সময়ে কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন দিরহাম (১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার)। একই সময়ে গ্রুপটির সামগ্রিক রাজস্ব ১২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২ বিলিয়ন দিরহামে (১৮ বিলিয়ন ডলার)। অথচ আগের বছর গ্রুপটি রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সুদ, কর, অবচয় ও অ্যামোর্টাইজেশন-পূর্ব আয় (ইবিটডা) ৪১ শতাংশ কমে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামে (৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার) নেমে এসেছে।
যাত্রী পরিবহনেও বড় ধরনের পতন দেখেছে গ্রুপটি। এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সময়ে এমিরেটস গ্রুপ ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতা ১০ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ২ বিলিয়ন অ্যাভেইলেবল টন-কিলোমিটারে নেমেছে।
এদিকে, অ্যাভেইলেবল সিট-কিলোমিটার (এএসকে) হিসেবে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা কমেছে ১৭ শতাংশ এবং রেভিনিউ প্যাসেঞ্জার-কিলোমিটার (আরপিকে) হিসেবে প্রকৃত যাত্রী পরিবহনের পরিমাণ কমেছে ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে যাত্রী আসন ব্যবহারের হারও কমেছে। গ্রুপটির মোট আসন সক্ষমতার বিপরীতে যাত্রী পরিবহনের হার আগের বছরের একই সময়ের ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমিরেটস গ্রুপের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৪ দশমিক ১ বিলিয়ন দিরহাম (১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার), যা গত মার্চের শেষে ছিল ৫৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহাম (১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার)। ঋণ পরিশোধ, নতুন বিমান কেনার জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং মালিকপক্ষকে ২ বিলিয়ন দিরহাম (৫৪৫ মিলিয়ন ডলার) লভ্যাংশ দেওয়ার কারণে নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে।
এ সময়ে গ্রুপটির মোট কর্মীর সংখ্যাও ২ শতাংশ কমে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা সত্ত্বেও স্থিতিশীল গ্রাহক চাহিদা এবং শক্তিশালী কার্গো কার্যক্রমের কারণে গ্রুপটি এখনো লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে আকাশপথে ভ্রমণ আবারও নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা গেছে। চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশের মধ্যেও বিমানবহর সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে এমিরেটস গ্রুপ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

