দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, লালমনিরহাটে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার দুপুরে লালমনিরহাট শহরের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের নবনির্মিত ছয়তলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে লালমনিরহাটে মাদক প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার করলেই হবে না; একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত তরুণদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনা জরুরি। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের পর জেলায় আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুলু বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, জুয়া, ঘুস, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে লালমনিরহাটকে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে একটি দৃষ্টান্তমূলক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ায় তারা উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার মান ও ফলাফলের প্রশংসা করে দুলু বলেন, লালমনিরহাটের কলেজগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অন্যতম সেরা অবস্থানে রয়েছে। নিয়মনীতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ শিক্ষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কলেজটি প্রতি বছর ভালো ফলাফল অর্জন করছে।
তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা এ কলেজ পরিদর্শন করে এর শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ভালো দিকগুলো অনুসরণ করলে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, কলেজের উপাধ্যক্ষ ও আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম সাদেকী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে কলেজের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। মন্ত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

