দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি বলেছে, লেবাননের ওপর ইসরাইলের হামলা, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আর মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা বন্ধ করতে লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরাইলকে বুঝতে হবে যে তাদের হামলা ও লেবাননের বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ আর নেই। এসব কর্মকাণ্ডের ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংগঠনটি।
হিজবুল্লাহর অভিযোগ, লেবানন কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের সঙ্গে ‘অপমানজনক সরাসরি আলোচনার পথে’ এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরাইলকে বিনা মূল্যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের আলোচনা ও ছাড় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে শনিবার দক্ষিণ লেবাননের আনসার ও দেইর আল-জাহরানি এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। লেবাননের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও কমান্ড-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা এসব হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরাইলের তিন সেনা আহত হওয়ার পর পাল্টা অভিযান হিসেবে হামলাগুলো চালানো হয়।
এছাড়া, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ‘ব্যাডার ইউনিট’-এর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আবু হাসান আলাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এ দাবি করে।
তারা জানায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে আলা ভূমিকা রাখছিলেন। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালানোর বিষয়ও ছিল।
ইসরাইলি বাহিনী বলেছে, ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবে আলাকে হত্যা করা হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ লেবাননের আনসার গ্রামে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসানকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরাইল। ওই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী ও তিন শিশু রয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, আনসারে হিজবুল্লাহর একটি অবস্থান লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

