সুখী দেশের তালিকায় কেন পিছিয়ে মুসলিমরা

সুখী দেশের তালিকায় কেন পিছিয়ে মুসলিমরা

‘সবাই তো সুখী হতে চায়, তবু কেউ সুখী হয়, কেউ হয় না’—কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মান্না দের কণ্ঠে গাওয়া এই কালজয়ী গানটি মানুষের চিরন্তন এক সত্যকেই তুলে ধরে। সুখের প্রত্যাশা সবার, কিন্তু সেই সুখ সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না।

সুখের খোঁজে মানুষ নানাভাবে ছুটে বেড়ায়। কেউ দেশান্তরী হয়, কেউ আপনজনদের সান্নিধ্যে শান্তি খোঁজে, আবার কেউ অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার মধ্যে জীবনের পরিতৃপ্তি খুঁজে ফেরে। কিন্তু মানসিক প্রশান্তি, তৃপ্তি, আনন্দ ও জীবনের সার্থকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সুখের অনুভূতি অধিকাংশ মানুষের কাছেই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

বিজ্ঞাপন

এখানেই বড় প্রশ্ন—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন কিংবা মাথাপিছু আয় বাড়লেই কি মানুষ প্রকৃত অর্থে সুখী হয়? একটি দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পেলেই কি তার নাগরিকদের জীবনসন্তুষ্টিও বাড়ে? বাস্তবতা বলছে, এই দুইয়ের মধ্যে সরল কোনো সমীকরণ নেই। এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকাশিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট বা বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন। ২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। টানা নবম বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিনল্যান্ড। এরপর রয়েছে আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, কোস্টারিকা, সুইডেন ও নরওয়ে। শীর্ষ দশে আরো রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ইসরাইল, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ড।

অন্যদিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর চিত্র তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। উচ্চ আয়ের কয়েকটি দেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও অধিকাংশ মুসলিম দেশ যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার কারণে তালিকার নিচের দিকেই রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থানও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নানা পরিসংখ্যানের আড়ালে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা স্বস্তিদায়ক ও সন্তোষজনক—বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনের ফলাফল সেই প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

সুখের সন্ধানে

মানুষের সুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নতুন নয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনেই কোনো না কোনোভাবে ভালো থাকার বাসনা কাজ করে। মানুষ মনে করে আরেকটু অর্থ থাকলে সুখী হব, ভালো চাকরি পেলে জীবন বদলে যাবে, নিজের বাড়ি বা গাড়ি কিনতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষ্য পূরণের পর সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নতুন প্রাপ্তি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়, তৈরি হয় নতুন চাহিদা।

ডিজিটাল যুগে এই মানসিক চাপ আরো বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ সাধারণত জীবনের সবচেয়ে আনন্দের, সফল ও আকর্ষণীয় মুহূর্তগুলোই তুলে ধরে। অন্যদিকে দর্শক নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে অন্যের সাজানো মুহূর্তের তুলনা করেন। ফলে নিজের জীবনকে অনেকের কাছে অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে। এ কারণেই সুখ কেবল আয়, সম্পদ বা ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সম্পর্ক, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫ বছর ধরে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে—টাকা, খ্যাতি বা ক্ষমতা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে সুখী করে না। মানুষকে সবচেয়ে বেশি সুখী ও সুস্থ রাখে তার সুন্দর ও গভীর সামাজিক সম্পর্কগুলো।

ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস র‌্যাংকিং

মানুষের নিজের জীবনের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি হয় ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট। গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি কাল্পনিক সিঁড়ির কথা ভাবতে বলা হয়। শূন্য ধাপকে জীবনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এবং ১০-কে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো জীবন ধরে তারা বর্তমানে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করেন। সাধারণত তিন বছরের তথ্যের গড় ব্যবহার করে দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

এরপর গবেষকরা ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সঙ্গে জীবনমূল্যায়নের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। এগুলো হলো মাথাপিছু আয়, সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবন প্রত্যাশা, নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, উদারতা এবং দুর্নীতি থেকে মুক্তির ধারণা। এই ছয়টি উপাদান সরাসরি র‌্যাংকিং তৈরির উপাদান নয়; বরং কেন এক দেশের মানুষ অন্য দেশের তুলনায় নিজেদের জীবনকে ভালো বা খারাপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন, তার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেয়।

র‌্যাংকিংয়ে মুসলিম বিশ্ব

২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে শীর্ষ ২০-এ কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২১, সৌদি আরব ২২, কুয়েত ৩০ এবং কাজাখস্তান ৪৩ নম্বরে অবস্থান করছে। শীর্ষ ৫০ দেশের মধ্যে মাত্র চারটি মুসলিম দেশ রয়েছে। আর শীর্ষ ১০০টি দেশের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৮টি। আর পুরো তালিকায় রয়েছে মাত্র ৩৭টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১২৭ নম্বর স্থানে।

গবেষকরা বলছেন, তালিকায় পিছিয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে, মুসলিম সমাজ বা ইসলাম সুখের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজতে গেলে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিতে হয়। মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত।

তারা জানান, অনেক দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি, বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতিও রয়েছে। কোথাও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কোথাও আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে সমানভাবে পৌঁছায় না।

গবেষকদের মতে, সুখের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন। বরং মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর, সমাজে পারস্পরিক আস্থা কতটা এবং মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা আশাবাদী—এসব প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফিনল্যান্ড কেন বারবার শীর্ষে

জাতিসংঘের সুখী দেশ নির্ধারণের ছয়টি মানদণ্ডের প্রতিটিতে ফিনল্যান্ড বিশ্বসেরা স্কোর অর্জন করায় বারবার শীর্ষে রয়েছে। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয়। ফলে অসুস্থতা বা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নাগরিকদের মনে কোনো বাড়তি মানসিক চাপ বা আর্থিক দুশ্চিন্তা থাকে না। আবার কোনো নাগরিক চাকরি হারালে, অসুস্থ হলে বা অবসরে গেলে রাষ্ট্র তাকে শক্তিশালী আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা দেয়। ফলে সেখানে ‘হাউজিং ফার্স্ট’ নীতির কারণে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় শূন্য।

এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থার দেশগুলোর একটি ফিনল্যান্ড। ফলে দেশটির জনগণ তাদের সরকার, পুলিশ, বিচার বিভাগ ও কর ব্যবস্থার ওপর গভীর আস্থা রাখে। শুধু তাই নয়, দেশটির মানুষের পারস্পরিক সামাজিক আস্থাও অনন্য।

অন্যদিকে, দেশটির নাগরিকদের কাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্বস্তি। ফিনিশ সংস্কৃতিতে অতিরিক্ত কাজ বা ওভারটাইম করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। সেখানে সপ্তাহে কাজের সময় সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা এবং কর্মীরা দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বাৎসরিক পেইড ছুটি পান। অফিস শেষ হওয়ার পর বাকি পুরো সময়টা তারা পরিবার, নিজের শখ এবং প্রকৃতির মাঝে কাটান। এই ভারসাম্য মানুষের মানসিক অবসাদ দূর করে।

তলানিতে বাংলাদেশ

বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন-২০২৬ অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। জরিপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের এই অবস্থানকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করছেন গবেষকরা। উদ্বেগের বিষয় হলো, সুখের সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান এবং দীর্ঘদিনের নানা সংকটে জর্জরিত সোমালিয়াও। দেশ তিনটির অবস্থান যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৯তম ও ১২২তম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, একটি দেশের মানুষের সুখ বা জীবনসন্তুষ্টি কেবল অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক সহায়তা, পারস্পরিক আস্থা, সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের প্রতি সহযোগিতা ও উদারতার মতো বিষয়ও সুখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব দেশে এসব সূচক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, বিশ্ব সুখ সূচকেও সেসব দেশ সাধারণত ভালো অবস্থানে থাকে।

বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৪৭ দেশের মধ্যে ১২৭তম স্থানকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক বলা যায় না। বরং কেন দেশটি এত নিচের দিকে রয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, সেটিই বিশ্লেষণের বিষয় হওয়া উচিত।

অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও সুখ কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক বাস্তব কারণ রয়েছে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট করছে। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। এর সঙ্গে চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, নগরজীবনের চাপ, তীব্র যানজট, বায়ুদূষণ, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক বৈষম্য মানুষের জীবনসন্তুষ্টিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মানুষের সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। প্রবৃদ্ধির সুফল যদি সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জীবন সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক মূল্যায়নও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাবে না।

পরিবেশ, জীবনযাপন ও মনের সম্পর্ক

সুখের সঙ্গে আবহাওয়া বা ভৌগোলিক অবস্থানের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের মতে, কোনো দেশের মানুষের সামগ্রিক সুখ বা অসুখকে শুধু জলবায়ু কিংবা ভৌগোলিক অবস্থান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবেশ মানুষের মেজাজ ও আচরণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবনসন্তুষ্টি নির্ভর করে ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত নানা উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে।

তিনি বলেন, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসও মানুষের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, মানসিক প্রশান্তি এবং সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক একজন মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীর ও মনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। শারীরিক অসুস্থতা যেমন মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও শরীরকে অসুস্থ করে তুলতে পারে।

অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের মতে, সুখকে কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রাষ্ট্র ও সমাজেরও দায়িত্ব এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে মানুষ নিরাপদ বোধ করবে এবং প্রয়োজনে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আস্থা রাখবে। এজন্য প্রয়োজন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা, কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা এবং নাগরিক মর্যাদার নিশ্চয়তা। একই সঙ্গে ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, দুর্নীতি ও বৈষম্য কমানো এবং মানুষের প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন