ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। রমজান মাসের শেষ প্রান্তে এসে সেমাই-চিনি, মাংস-মসলা কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরবাসী। বাড়তি চাহিদার জেরে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, নিম্নগতিও রয়েছে কিছু পণ্যে। সব মিলিয়ে বাজারে দেখা যাচ্ছে মিশ্র চিত্র।
সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেমাই, চিনি, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। পোলাও চাল, ভোজ্যতেল, মুরগি, গরুর মাংস ও কিছু মসলার দাম বেড়েছে। তবে কমেছে পেঁয়াজ, সবজি ও ফলের দাম। অন্যদিকে চালসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের ইমাম উদ্দিন বাবলু জানান, সেমাই ও চিনির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা, আলাউদ্দিন সুইটের ৫০০ প্যাকেট সেমাই ১৫০ থেকে ২৫০টাকা, ৫০০ গ্রাম অলিম্পিয়া সেমাই ২৮০ থেকে ৭০০টাকা, ২০০ গ্রামের বনফুল ও কুলসুম সেমাই প্যাকেট ৪৫ টাকা। এছাড়া খোলা লম্বা সেমাইয়ের কেজি ৯০ টাকা এবং লাচ্চার কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনি কেজিপ্রতি ১০০-১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের মিজান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান আমার দেশকে বলেন, তবে ঈদ ঘিরে শুকনো ফল ও কিছু মসলার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিভিন্ন ধরনের মসলা দুইশ থেকে আটশ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে পোলাও চাল কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
টিসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় চিনির দাম কেজিতে ১২ দশমিক ৭৭ টাকা কমেছে। এছাড়া সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, দেশি ও আমদানি রসুন, আদা, দারুচিনি, লেবু, কাঁচামরিচ, বেগুন, শসার দাম কমেছে। অন্যদিকে সব ধরনের সয়াবিন তেল, পাম অয়েল (লুজ, সুপার), মসুর ডাল (বড়), লবঙ্গ, মুরগি ব্রয়লার দাম বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৭০ টাকা, লেয়ার ৩১০-৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নূরজাহান চিকেন ব্রয়লার হাউসের নজরুল ইসলাম বলেন, চাহিদা বেশি ও সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে, তবে ঈদের ৩-৪ দিন পর থেকে আবার দাম কমতে পারে।
গরুর মাংসের দামও কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, যা এক হাজার ২৫০- এক হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে মাংসের দাম বাড়লেও ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ৯০-১০০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা আজমল হোসেন বলেন, ঈদবাজারে ডিমের চাহিদা কমে দাম কমেছে। আরো দেড় সপ্তাহ দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
মাছ ব্যবসায়ী সানু মিয়া বলেন, ঈদের আগ মুহূর্তে সরবরাহ কমে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ বেড়েছে।
অন্যদিকে চাহিদা কমে যাওয়ায় সবজির বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ, আলু, লেবু, শসা, বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৫-১৮ টাকা এবং টমেটো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫-৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। লেবুর হালি ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতারা জানান, ঈদের ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমে গেছে, ফলে দামও কমেছে।
গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কমে ৫০ টাকার মধ্যে আর করলা সর্বোচ্চ ৭০-৮০ এবং কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি গোল ও লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, সিম ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, গাজর ৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা ও বরবটি ৪৫ টাকা।
এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ করছে, ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এক বা দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না, বাধ্য হয়ে ক্রেতাদের বড় বোতল কিনতে হচ্ছে। অনেক দোকানি অন্যান্য নিত্যপণ্য না কিনলে শুধু সয়াবিন তেল বিক্রি করতেও অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
মাছের বাজারেও ঈদের আগে দাম বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

