রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে ওই এলাকায় দুই দিনে দুজনের মৃত্যু হলো। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যায়, ফলে তার চিকিৎসা বিলম্বিত হয়।
নিহত যুবকের নাম নিশাত মিয়া (২৭)। তিনি পিকআপ চালক ছিলেন। যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচার সুতিখাপার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক তাজমুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার ভোরে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবিরবাগিচার ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন ডেমরা সড়ক এলাকায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে গণধোলাই দেন। এতে ঘটনাস্থলেই জনি (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নিশাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে নিহতের বোন শারমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, আরাফাত নামের এক ব্যক্তি ফোন করে জনিকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। পরে জনিকে বিবিরবাগিচার একটি ক্লাবের কক্ষে নিয়ে সাত-আটজন মিলে মারধর করেন। এরপর নিশাতকেও একই স্থানে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে নিশাতের বাবাকেও আক্রমণ করা হয়।
নিশাতের পরিবারের আরো অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মেহেদির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতাল থেকে নিশাতকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি ছিল, নিশাতের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে এবং হাসপাতাল তাকে হেফাজতে নেওয়ার উপযোগী বলে সনদ দিয়েছে। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে থানায় নিয়ে করিডরের মেঝেতে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক হাসান কবির জানান, নিশাতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছিনতাইয়ের একটি মামলা ছিল। হাসপাতাল থেকে ‘ফিট’ সনদ পাওয়ার পরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। থানার মেঝেতে বেঁধে রাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন না।
নিশাতের বন্ধু অপনের দাবি, বিবিরবাগিচা এলাকায় ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিশাত ও জনি সত্যিই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তাও যাচাই করা যাবে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


