পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। শ্রমিকদের কোনো ধরনের উসকানি, অপপ্রচার কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ব্যবহার করে কেউ যেন দেশের শিল্পকারখানা ও অর্থনীতির ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাভার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে পোশাকশিল্পের চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ তাঁদের অন্যান্য দাবি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যেখানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের পাশাপাশি একজন নিরপেক্ষ প্রতিনিধিও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত, শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।
পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনাদের ন্যায্য দাবিকে পুঁজি করে কোনো মহল যেন দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ কিংবা উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই; এতে তাঁদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তাই যেকোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও আলোচনাভিত্তিক পথ অনুসরণ করতে হবে।
তৈরি পোশাকশিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে ডিসি বলেন, ‘এ শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা, দেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গার্মেন্টসশিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম সচল থাকলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং অর্থনীতিও গতিশীল হবে। তাই কোনোভাবেই যেন এ শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
পাশাপাশি মালিকপক্ষের প্রতি শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি, অধিকার ও কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর থেকে গাজীপুর এবং সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুর শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন সংঘবদ্ধ রূপ নেয়, যা ৩১ অক্টোবর তীব্র আকার ধারণ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এসব অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। তবে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সমন্বিত তৎপরতা এবং সতর্ক অবস্থানের ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সাভারের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


