বিএমইউতে জুলাই নারী দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা

নারীদের অংশগ্রহণে দ্রুত ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে

নারীদের অংশগ্রহণে দ্রুত ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে

জুলাই অভ্যুত্থানে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের ন্যায় নারীরাও অংশ নিয়েছিল। তাঁরা বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। নারীদের অংশগ্রহণে দ্রুত ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জুলাই নারী দিবস (জুলাই ওমেন্স ডে) উপলক্ষে র‍্যালি পরবর্তী আয়োজিত আলোচনায় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম র‌্যালির নেতৃত্ব দেন।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাহেবা আখতার। বিশেষ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেন্ট্রাল পলিটিক্যাল উইংয়ের সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নির্ভয়ে প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অফুরন্ত সাহস মন্তব্য করে প্রধান অতিথি বিএমআরসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাহেবা আখতার বলেন, ‘মা জাতিকে আমরা যেমন ভালোবাসি আবার অবহেলাও করি। মায়ের জাতি নারীরা যাতে অবহেলিত না হয়, সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে আমি ঘরে বসে থাকিনি, প্রতিদিন রাস্তায় বের হয়েছি। এই গণঅভ্যুত্থান অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য চিরকাল প্রেরণা যুগিয়ে যাবে। জুলাই আন্দোলনে নারীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, অবদান রেখেছেন, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। নারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। ফলে বাংলাদেশ আজ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানে যারা ছাত্র জনতার ওপর হামলা করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে আজও তাদের বিচার হয়নি। অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে। ধর্ষণের মতোও ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনারও বিচার হতে হবে। দেশটা সবার, তাই আমাদের সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে রক্ষা করতে হবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেন্ট্রাল পলিটিক্যাল উইংয়ের সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব ছিল একটি ইউনিক (ব্যতিক্রমী) রেভুলেশন। সর্বস্তরের মানুষ এই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিল। ফলে দেশটা ১৬ বছরের নিষ্পেষণ থেকে মুক্ত হয়েছে। বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ক্ষমতার পালা ঘুরিয়ে দিলাম। জুলাই বিপ্লবেও যেনো তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তাই বিভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে ফ্যাসিস্টরা আবার মাথাচাড়া দিবে। ব্যাক্টেরিয়া ভাইরাসরূপী ফ্যাসিস্টদের রুখতে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জুলাই গণহত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে। বর্তমানের চাঁদাবাজ, ধর্ষণের মতো ঘটনা সকলে মিলে রুখতে হবে। নৈতিকতা ও নৈতিক শিক্ষার উপর অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে।’

ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল অসাধারণ। ফলে ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন হয়েছে। তবে এখন রণক্লান্ত হলে চলবে না। দেশটাকে সামনে দিকে এগিয়ে নিতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে। রোগীরা যাতে উন্নত চিকিৎসা পায়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে যাতে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সেটা বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই শহীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

উদ্বোধনি বক্তব্যে বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কিভাবে জুলাই বিপ্লবের পরিণত হলো এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেণ। তিনি বলেন, ‘জুলাই চেতনা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে নবজাগরণের অফুরন্ত প্রেরণা। এই আন্দোলনে ছাত্রীরা, গৃহিণীরা ও মায়েরা অসামান্য অবদান রেখেছেন। জুলাই আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে।’

বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের বেদনা শুধু তারাই বুঝতে পারেন। ২০২৪ জুলাই ছিল এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। ওই সময়ে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। সে সময়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, একজন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন