রাজধানীর বংশাল এলাকায় বাথরুমে সিগারেট ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া কলেজ শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম সিয়াম (২০) মারা গেছেন। এর আগে গত ১২ জুলাই বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের আলী নকি দেউরী এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি। পরিবারের ধারণা, বাথরুমে আগে থেকেই গ্যাস জমে ছিল। লাইটার জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুনে দগ্ধ হন তিনি।
সিয়ামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে। তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের আলী নকি দেউরী এলাকায় থাকতেন। তিনি একটি পলিথিনের দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেন। তিনি জানান, গত ১২ জুলাই রাত ১টার দিকে বাথরুমে সিগারেট খাওয়ার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে সিয়াম দগ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিলেও গতকাল বিকালে মারা যান তিনি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল, যা জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সবাই ছুটে যান। দরজা খুলে দেখতে পান সিয়ামের শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। দ্রুত আগুন নেভানোর পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সিয়ামের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, ছেলেকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কয়েকদিনের চিকিৎসার পরও তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। দ্বীন ইসলাম সিয়াম স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভালো একটি পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার।
অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বদ্ধ কক্ষ, বিশেষ করে বাথরুম বা রান্নাঘরে কোনো কারণে গ্যাস জমে থাকলে সেখানে আগুন বা বৈদ্যুতিক স্পার্ক ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। তাই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, আগুন না জ্বালানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

