জুলাইয়ের ৫৯ মামলা সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: ডিবিপ্রধান

জুলাইয়ের ৫৯ মামলা সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: ডিবিপ্রধান
সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান । ছবি: সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল পর্যায়ে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক আসামি, বিশাল ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার, ভিডিও ফুটেজ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং প্রত্যেকের পৃথক ভূমিকা যাচাই করে সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়; ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জুলাই-সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত ৫৯টি মামলা তদন্ত করছে ডিবি।

বিজ্ঞাপন

শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, কে কোথায় অবস্থান করেছিলেন এবং কার বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উপাত্ত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ জিবি ডিজিটাল তথ্য তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া না করে আইন অনুযায়ী নির্ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ভুলভাবে অভিযুক্ত না হন, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জুলাই-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত একাধিক পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। ডিএমপির একটি মনিটরিং সেল নিয়মিত মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরও পৃথকভাবে এসব মামলার তদন্ত তদারকি করছে।

ভুয়া বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি ভিন্ন উদ্দেশ্যে বা অসৎ অভিপ্রায়ে মামলা করে থাকেন, তদন্তে সেটি উঠে আসবে। তদন্ত শেষে যাদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, শুধু তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

তদন্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং অসংখ্য আসামির পৃথক ভূমিকা নির্ধারণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন মামলায় আসামির তালিকা, অভিযোগের ধরন ও ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি মামলাই আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন