জৈনপুরের পীর ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় যখন নিরীহ শিশু ও মুসলমানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়; কাশ্মীরে, চীনের উইঘুরে মুসলিম নির্যাতন করা হয়, তখন এ মানবাধিকার কমিশন কোথায় থাকে? সেখানে তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যায় না কেন?
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ইন্তিফাদা বাংলাদেশের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এসব প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর ইন্তিফাদা বাংলাদেশের ব্যানারে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনের সড়কে ফেস্টুন-ব্যানার নিয়ে জমায়েত হন আলেম-ওলামারা। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করে মতিঝিল শাপলা চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে জৈনপুরের পীর আরো বলেন, বাংলাদেশে যাতে কেউ ইসলামের কথা, জিহাদের কথা না বলতে পারে, সেজন্য মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনের নামে নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে এনায়েতুল্লাহ আরো বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশনের নামে নতুন ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তাদের কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মীর ইদরিসের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন—মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান গুনবী, রফিকুল ইসলাম মাদানী, আসিফ আদনান, আহমাদ রফিক, শফিকুল ইসলাম ও আশিক আল আবিদ প্রমুখ।
এ ছাড়া জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল পল্টন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সমাবেশে দলটির মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশের জনগণের মতামত ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে, যা গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার পরিপন্থি।
জমিয়ত নেতারা বলেন, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তে আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র আপত্তি প্রকাশ করছি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ সিদ্ধান্তকে ‘বাংলাদেশের স্বার্থে’ বলে ব্যাখ্যা দিলেও জাতির সামনে এ স্বার্থ স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের নিজস্ব সংবিধান, বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার কমিশন রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল ও জাতীয় স্বার্থে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করুন।
জমিয়তের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন—সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মতিউর রহমান গাজীপুরী, সহকারী মহাসচিব জয়নুল আবেদীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দিন খান, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

