আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাজধানীতে বিদেশি অস্ত্রসহ ৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

স্পোর্টস রিপোর্টার

রাজধানীতে বিদেশি অস্ত্রসহ ৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

রাজধানীর পল্লবী ও শাহ আলী থানা এলাকা থেকে র‌্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে দুই বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করেছে। তাদের সঙ্গে এক মাদক ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে বারোটায় রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংস্থাটির স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা অভিযানে ফাইজুর রহমান মুক্তি (৫৫) ওরফে ডন মুক্তি, শাকির আহম্মেদ সুমন (৪৫) ওরফে হকি সুমন এবং গোলাম মোস্তাফা কামাল বাপ্পি (৪৫) ওরফে শুটার বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শাহ আলী থানার গোড়ার চটবাড়ি বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান শুরু হয়। সেখান থেকে উক্ত তিনজনকে আটকের পর তাদের নির্দেশনায় পল্লবী থানার লালমাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি স্থান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, একটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড টকটকে গুলি উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী বাবু ওরফে পিচ্চি বাবু (৩৮) কে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর ও শাহ আলী থানা এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র ডাকাতি, ছিনতাই এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা বিভিন্ন থানায় দায়ের রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে র‌্যাব দাবি করে।

গ্রেপ্তারদের সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আটক ও অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আরও অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, কল্যাণপুর এবং আশেপাশের এলাকায় একটি সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ডাকাতি, চাঁদাবাজি, বখতিয়ারবাড়ি মামলার আসামিকে পালাতে সহায়তা এবং একটি ব্যাংক কর্মকর্তার অপহরণের চেষ্টার মতো একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে বিভিন্ন থানায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য এক সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত অস্ত্র দুটির সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে দেখা গেছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত এবং পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সীমান্ত পথে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করানো হয়েছে। এই অস্ত্র ব্যবহার করে গত ছয় মাসে রাজধানীতে সংঘটিত কমপক্ষে চারটি সশস্ত্র ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের যোগসূত্র পাওয়ার দাবি করেন র‍্যাব কর্মকর্তারা। তবে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে নতুন কয়েকটি অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে। অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহকারী চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন