৪১ স্লুইসগেটের অর্ধেকই অচল, দুর্ভোগে নগরবাসী

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

৪১ স্লুইসগেটের অর্ধেকই অচল, দুর্ভোগে নগরবাসী
ছবি: আমার দেশ

রাজধানীতে অল্প বা ভারি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রধান সড়কের পানি দ্রুত সরে গেলেও অলিগলিতে কয়েক দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। সিটি করপোরেশন ড্রেনে কঠিন বর্জ্য ফেলার কারণে এ সমস্যার কথা বললেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অকার্যকর স্লুইসগেট, পাম্পস্টেশন, খাল ও ড্রেনেজ-ব্যবস্থাই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ৪১টি স্লুইসগেটের মধ্যে মাত্র ১৯টি কার্যকর। বাকি ২২টির মধ্যে ছয়টি সম্পূর্ণ অচল এবং ১৫টি আংশিক সচল হলেও কার্যকরভাবে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। স্লুইসগেট পরিচালনায় পর্যাপ্ত জনবলও নেই। রাজধানীর আটটি প্রধান পানি নিষ্কাশন আউটলেটের তিনটি বড় পাম্পের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। অন্য পাম্পগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে না। দুই সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সাকার মেশিনের একটি অচল এবং ২৬টি খালের বড় অংশ পানিপ্রবাহের সক্ষমতা হারিয়েছে।

প্রায় ৩০৬ দশমিক ৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১২৯টি ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকরভাবে নির্ভর করতে হয় মাত্র আটটি আউটলেটের ওপর। এগুলো বিভিন্ন সংস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। কমলাপুরের টিটিপাড়া পাম্পস্টেশনের প্রতি মিনিটে প্রায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার লিটার পানি অপসারণের সক্ষমতা থাকলেও তিনটি বড় পাম্পের একটি প্রায় দেড় বছর ধরে বিকল। নতুন পাম্প কেনার দরপত্র সম্পন্ন হলেও চলতি বর্ষায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

ডিএসসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ বলেন, টিটিপাড়ার বিকল পাম্পের পরিবর্তে নতুন পাম্প আগামী সপ্তাহে সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ স্লুইসগেটের যান্ত্রিক অংশ নষ্ট হয়েছে। জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ রাখায় পাম্পিংয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, কিন্তু পাম্পও পুরোপুরি সচল না থাকায় পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, ঢাকার জন্য বর্তমান আউটলেট ও স্লুইসগেট পর্যাপ্ত নয়। বিদ্যমান স্লুইসগেট দ্রুত সচল করার পাশাপাশি নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজিব খাদেম বলেন, ড্রেনে পলিথিন, প্লাস্টিক, রাবার ও স্পঞ্জ ফেলার কারণে ব্লকেজ তৈরি হচ্ছে এবং অনেক এলাকার পানি দীর্ঘ পথ ঘুরে নদীতে পৌঁছায়। তাই ড্রেনেজ-ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অকার্যকর স্লুইসগেট মেরামত, পাম্পের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং নতুন সাকার মেশিন সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি মোতায়েনের পাশাপাশি পাম্পগুলো সচল রেখে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন