রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্স (২৫) এবং ভুয়া এসআই পরিচয়দানকারী রিপন মিয়া (২৪)।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল
সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের একটি দল বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে সাভার ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্সকে গ্রেফতার করে। প্রিন্স দিনাজপুরের বিরল থানার মির্জানগর গ্রামের মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে এবং চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী।
সিআইডি জানায়, প্রিন্স ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সুকৌশলে এক নারীর ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সেগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে। সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী নারী বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে তাকে ২৪ হাজার টাকা প্রদান করেন। এ ঘটনায় গত ১৭ মার্চ আশুলিয়া থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হলে সিআইডি তদন্ত শুরু করে তাকে শনাক্ত করে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও দুটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে তাকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডির ‘এসআই’ সেজে প্রতারণা
পৃথক অন্য এক অভিযানে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকা থেকে রিপন মিয়া নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। রিপন নেত্রকোণার পূর্বধলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিজেকে সিআইডির সাইবার ইউনিটের ‘এসআই ইকবাল’ বা ‘এসআই আরমান’ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি এক ব্যক্তি বিমানবন্দর এলাকায় তার আইফোন-১৫ হারিয়ে ফেলেন। ফোনটি উদ্ধারের আশায় তিনি ‘Cyber Crime Helpline’ নামক একটি ভুয়া ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করলে রিপন নিজেকে এসআই পরিচয় দিয়ে ফোন উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন। বিনিময়ে বিকাশে ৫ হাজার টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একইভাবে অন্য এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তিনি ৭২ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ও ৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
জনসাধারণের প্রতি সতর্কতা
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা ডিজিটাল ডিভাইসে একান্ত ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে বিশেষভাবে সতর্ক করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

