সরকার জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে তামাশা করছে: মাওলানা আব্দুল হালিম

সরকার জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে তামাশা করছে: মাওলানা আব্দুল হালিম

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার তামাশা করছে এবং জুলাইয়ের চেতনা ও জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটওয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন, পরিবহন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আব্দুস সবুরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমরা মনে করি, একই দিনে দেশে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। অথচ রংপুরে গিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। কিন্তু এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে সরকার তামাশা করছে। জনগণের সঙ্গে এমন আচরণ চলতে থাকলে মানুষ তা রুখে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অধিকারসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কেবল সংস্কার নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত কার্যকর পরিবর্তন। ছাত্র-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের দোসররা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আগামী দিনে শ্রমিক-জনতার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সেক্টরে শ্রমিক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে। পরিবহন খাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। এ খাতের শ্রমিকদের সর্বস্তরে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে।

সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সারা দেশ থেকে আগত বিভিন্ন নির্বাচিত সিবিএ নেতাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন