পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই শহীদদের অবমাননা করেছে

অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই শহীদদের অবমাননা করেছে
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি অবমাননা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেন। তিনি কর্মের মাধ্যমে শহীদদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।

রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মীর হেলাল বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যারা সরকার পরিচালনা করেছেন এবং যাদের প্রভাবে সরকার পরিচালিত হয়েছে, তারা জুলাই স্পিরিট, অর্থাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আবেগ, অনুভূতি ও চেতনা, সমুন্নত রাখতে পারেননি। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে তারা জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা করেছেন বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘যাদের স্মরণে আজ আমরা কিছু কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যাদের বাবা-মায়ের আর্তনাদ আমরা শুনেছি, এরকম হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ আর্তনাদ আমাদের গত ১৭ বছর শুনতে হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী নৃশংসভাবে হত্যা, গুমের শিকার হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, “শুধু বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নয়, এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে যারা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন, তারাও গুম, খুন, হামলা-মামলা ও কারানির্যাতন থেকে মুক্তি পাননি।”

মীর হেলাল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, জনরোষ ও প্রতিবাদের চূড়ান্ত ফলাফল।”

তিনি বলেন, “কোনো গণঅভ্যুত্থান কোনো এক ব্যক্তি বা এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ, গণতন্ত্রপ্রেমী ও দেশপ্রেমিক মানুষ, যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই এই গণবিস্ফোরণের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বিপ্লবের গল্প শুনে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে কাজ করা এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নেতৃত্বই দিচ্ছেন।”

তিনি সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন