রাজধানীর কাফরুল এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে স্থানীয় যুবদলের কর্মী ইউসুফ বেপারী নিহতের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। বিষয়টি ঝুটের ব্যবসা না অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে তা জানতে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করছে মামলার তদন্তকারীরা।
পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় চঞ্চল নামে এক যুবক আটক আছে। গুলি করার সময় জনতা তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরেছিল। চঞ্চল মিরপুরে থাকে না। সে একজন ভাড়াটিয়া খুনী। কেন চঞ্চল এখানে গুলি করতে আসলো তাকে কে সেখানে পাঠিয়েছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুক্রবার রাতে কাফরুলের শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে রাতে হাফিজুর ও ইউসুফসহ কয়েকজন স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত এসে তাঁদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে দুজনের শরীরে গুলি লাগে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউসুফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকের মাঝামাঝি গুলি লেগেছিল। গুলিবিদ্ধ অপরজন হাফিজুর অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্র জানায়, এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের ডিসি মোস্তাক সরকার শনিবার রাতে আমার দেশকে জানান, ‘ এ ঘটনায় চঞ্চল নামে একজন আটক আছে। আমরা খুনের ঘটনার তদন্ত করছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কাফরুলের গুলির ঘটনায় তারা একজন আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে তারা অভিযান চালাচ্ছে।
সূত্র জানায়, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুটের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি দলের একাধিক নেতৃবৃন্দ ঘরোয়া বৈঠক করলেও কোন সমাধান আসেনি। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, নিহত ইউসুফের বাবার নাম শাহজাহান বেপারী। তিনি পরিবারসহ রাজধানীর মিরপুর এলাকায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

