ঢাকার কেরাণীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের পূর্ব চরাইল বন্দ ডাকপাড়া গ্রামের একটি সড়ক যেন পরিণত হয়েছে স্থায়ী জলাশয়ে। এক-দুবছর নয়, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকছে। বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। হাঁটুসমান নোংরা পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের এক পাশজুড়ে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। অন্য পাশে দীর্ঘ অংশজুড়ে স্থির হয়ে আছে কালচে পানি। পানির ওপর ময়লা-আবর্জনা ভাসছে। কোথাও কোথাও রাস্তার কিনারাও বোঝা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেককেই বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টির পানি পর্যন্ত সড়ক থেকে সরতে চায় না। বছরের পর বছর এভাবে পানি জমে থাকায় রাস্তার স্বাভাবিক চলাচলব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণ তীব্র হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চড়াই নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু সড়কে পানি জমে থাকায় সবাইকে যাতায়াতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেককে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষাকালে অনেক সময় হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। ফলে পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের পানিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরো বেশি।
জলাবদ্ধতার কারণে সড়কটিতে যাত্রী নিয়ে যেতে অনীহা দেখান চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি কতটা গভীর কিংবা রাস্তার কোথায় গর্ত রয়েছে—তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে রিকশা উল্টে যাওয়া বা যাত্রী পানিতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।রিকশা না পাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে স্থানীয়দের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করছে।
দীর্ঘদিন জমে থাকা পানির সঙ্গে মিশে আছে পচা ময়লা-আবর্জনা। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। স্থানীয়দের অনেকেই নাক চেপে রাস্তা পার হন। স্থির পানির কারণে মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের নোংরা পানি ও ময়লার স্তূপের কারণে পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য—দুদিক থেকেই পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মশা-মাছির উপদ্রবে শিশু ও বয়স্করা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন শামীম বলেন, ১০ বছর ধরে জলাবদ্ধতা দেখে আসছি। এর আগে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, তারাও সড়কটি উন্নয়ন করেনি। এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে একটাই দাবি—আর কোনো বর্ষায় যেন হাঁটুপানি মাড়িয়ে পার হতে না হয়। তিনি জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগকে সড়কটি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, মশক নিধন এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে জিনজিরা ইউপির প্রশাসক শিবলিজ্জামান আমার দেশকে বলেন, বিগত দিনে সড়কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপজেলা এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কেরানীগঞ্জের ইউএনও উমর ফারুক বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। সড়কটি কোন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

