সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা পিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ ৩৪ বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসায় তারা খালেদা জিয়ার ওই ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালের ২২ মে কেরানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় খালেদা জিয়া বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পর একই বছরের ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত পত্রে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ওই পত্রের অনুলিপি তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে সরকারিকরণের কার্যক্রম আর এগোয়নি।
এরপর তিন দশকেরও বেশি সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। এ সময় কেরানীগঞ্জ থেকে নির্বাচিত একাধিক জনপ্রতিনিধি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও স্কুলের বিষয়টির কোনো অগ্রগতি হয়নি।
১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত জিনজিরা পিএম পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেরানীগঞ্জের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও দানবীর মরহুম খান বাহাদুর হাজী হাফেজ মোহাম্মদ হোসেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৫৮ সালে বিদ্যালয়ের প্রথম পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। বিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘আরশি’ স্মরণিকা অনুযায়ী, ১৯৫৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৭৪ থেকে ৮৬ শতাংশের মধ্যে ছিল।
২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানের উদ্যোগে জিনজিরা সমিতি কলেজ শাখার উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক কলেজ শাখার উদ্বোধন করেন। একই বছর প্রধান শিক্ষক এমএ সোবাহান কলেজ শাখার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি টানা ৪০ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০০৮ সালে অবসরে যান।
বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ আবুজর গিফারী ও আবুল হাসেম, শিক্ষা সচিব হেদায়েত আহমেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. ইউনুস, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক এবং সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঘোষণার পরও বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। তারা বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের স্কুল শাখার প্রধান মিজানুর রহমান আমার দেশকে বলেন, জিনজিরা পিএম পাইলট স্কুল প্রতিষ্ঠাকালে এই এলাকায় আর কোনো বিদ্যালয় ছিল না। ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের ঘোষণা দিলেও স্থানীয় কিছু ব্যক্তিস্বার্থের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিগত সময়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। বর্তমানে পড়াশোনার মান উন্নত হচ্ছে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে স্কুল শাখায় তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দুই হাজার ৬৩৬ জন এবং কলেজ শাখায় বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে প্রায় ৬০০ জনসহ মোট তিন হাজার ২৩৬ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

