তেজগাঁওয়ে রেলওয়ের পাঁচ একর জমি আবার অবৈধ দখলে

তেজগাঁওয়ে রেলওয়ের পাঁচ একর জমি আবার অবৈধ দখলে
আবার পুরোনো চেহারায় রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়ক। বিভিন্ন সময় অবৈধ পার্কিং ও দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। ছবি: আমার দেশ

রাজধানীর তেজগাঁও রেলস্টেশন ও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ জমি আবার অবৈধ দখলে নিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। এসব জায়গায় দলীয় কার্যালয়, অবৈধ দোকানপাট এবং রিকশার গ্যারেজ গড়ে তুলেছেন তারা।

দফায় দফায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে অসহায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রায় পাঁচ একর জমি দখল করে দোকানপাট ও গ্যারেজ তৈরি করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

বিজ্ঞাপন

রেলওয়ে ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতারা প্রায়ই এই বিশাল জায়গা এবং ট্রাকস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করেন। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে দখলের নিয়ন্ত্রণও হাতবদল হয়েছে। ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের তেজগাঁও থানা এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার প্রধান কার্যালয়। এখন সেখানে বসেছে খাবারের দোকান।

সরেজমিন দেখা যায়, রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন দখলদাররা। কোথাও গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও আবার তৈরি করা হয়েছে রাজনৈতিক দলের অফিস। বড় বড় ব্যানার টাঙিয়ে ভেতরে রুম তৈরি করে দুপাশে বসানো হয়েছে চায়ের স্টল। রেলের জায়গায় অবৈধভাবে পার্ক নির্মাণেরও চিত্র দেখা গেছে। মসজিদসংলগ্ন রেললাইনের পাশে প্রায় দুই একর জায়গায় টিনশেড ঘর তুলে অবৈধভাবে দখলে নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপি, তেঁজগাও কৃষক দল ও শিল্পাঞ্চল শ্রমিক দলের নামে তিনটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এর চারপাশে থাকা শতাধিক দোকানের মালিক স্থানীয় বিএনপি, শ্রমিক দল ও কৃষক দলের নেতারা।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল শ্রমিক দলের নামে তৈরি করা নতুন টিনশেড ঘরের পাশেই রয়েছে আযাদের টি স্টল। ওই দোকানের মালিক আযাদ জানান, তাকে কোনো ভাড়া দিতে হয় না। কারণ, তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সহসভাপতি। কীভাবে দোকানের মালিক হলেন—জানতে চাইলে তিনি আমার দেশকে বলেন, এই যে বিএনপির ক্লাবগুলো দেখছেন, এখানকার নেতারা আমাকে দোকান দিয়েছেন।

পাশের আরেকটি ভাতের হোটেল তেজগাঁও কৃষক দলের এক নেতার। কিন্তু কর্মচারীরা ওই নেতার নাম বলতে চাননি। বিএনপির কথিত অফিসগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ট্রাকস্ট্যান্ড ইউনিয়নের সদস্যরা টিভি সিরিয়াল দেখায় ব্যস্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২১ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও রেলগেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল রেলওয়ে বিভাগ। অভিযানে পাঁচ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়। ওই জায়াগা এক বছর ধরে খালি ছিল। সেই জায়গা এবার দখল করেছেন স্থানীয় বিএনপি, শ্রমিক দল ও কৃষক দলের নেতারা। প্রায় আধা একর জায়গায় বালু ভরাট করে টিনের বেড়া দিয়ে গ্যারেজ তৈরি করা হয়েছে। ওই জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন মাসুম নামে আরেক বিএনপিকর্মী।

স্থানীয়রা জানান, ১৫-১৬ দিন আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মিলে জায়গাটি দখল করে নেন। সেখানে বালু ভরাট করে গ্যারেজ তৈরি করা হয়েছে। রাত ৮টার পর ওই সব নেতা এখানে এসে আড্ডা জমান।

অবৈধভাবে নির্মাণ করা গ্যারেজে রিকশা রেখেছেন, এমন একজনের সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, যারা গ্যারেজে রিকশা রাখেন, তাদের কাছ থেকে টাকা রাখা হয়। কে টাকা রাখে—প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যে মালিক সে-ই টাকা রাখে।

প্রতিদিন বেগুনবাড়ী থেকে হেঁটে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার সময় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন বলে জানান কারওয়ান বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, রিকশায় করে গেলে কত সময় লাগে, তার ঠিক নেই। এজন্য হেঁটে যাই। রাত বাড়লে ট্রাকের পেছনে ও ফুটপাতে বসে অনেকে নেশা করে। সন্ধ্যার পর তো চলার অবস্থাই থাকে না। রাত যত বাড়ে, এলাকা দিয়ে চলাচল তত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, রেলওয়ের জায়গা ও প্ল্যাটফর্ম থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে রেলওয়ে। বর্তমানে ময়মনসিংহে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশন এলাকা থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...