স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অর্জন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জনগণের সামনে তথ্যভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রতিটি দপ্তরের কার্যক্রম যেন স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী মন্ত্রণালয় বিভাগ কর্তৃক প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভার শুরুতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পক্ষ থেকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, অর্জন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয় বিষয়ে উপস্থাপনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দপ্তরকে তাদের কর্মপরিধি ও অর্জন সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যনির্ভরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, কৃষি উন্নয়ন, ঋণ বিতরণ, উপকারভোগীর সংখ্যা, সমবায় সদস্য বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল আরও দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং প্রয়োজনভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক জনশক্তিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সব ধরনের সেবা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই জরিপের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যা, আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং লক্ষ্যভিত্তিক সেবা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির, এনডিসি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার মহাপরিচালক একেএম তারেক, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত কুমার সিকদার, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক পিএইচডি, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), গোপালগঞ্জের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন পিএইচডিসহ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন সকল প্রকল্প পরিচালক এবং বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


