ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০টি অঞ্চলে আজ একযোগে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্লিনিং ডে’ উদযাপিত হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়ার লক্ষ্যে ডিএসসিসি প্রশাসক কর্তৃক প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে ‘ক্লিনিং ডে’ ঘোষণা করার পর এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা দিবসকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। প্রতিটি অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা (আনিক) সরাসরি মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন।
এতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত প্লট মালিকরাও নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
সকালে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মালিবাগ এলাকায় আধুনিক অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, “সবাই মিলে কাজ করলে আগামী ছয় মাসেই বদলে যাবে ঢাকা শহর। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। আজ যেভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কারে এগিয়ে এসেছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকা একটি আধুনিক ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।”
প্রশাসক জানান, প্রতি মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর প্রতিটি বাড়ি, বাজার, আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও মার্কেটসহ সব স্থানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। এছাড়া সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে একদিন এ কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
তিনি সকল রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন, স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের সদস্যদের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রশাসক এডিস মশার প্রজনন রোধে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব ও আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, কলাবাগান ও মালিবাগের মতো পর্যায়ক্রমে পুরো শহরের সব সেকেন্ডারি বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্র আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি এবং ডিএসসিসির ‘ক্লিনিং ডে’ একসঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে এবং পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


