বুয়েটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণায় নতুন ল্যাব উদ্বোধন

বুয়েটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণায় নতুন ল্যাব উদ্বোধন

বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবরেটরি (বিইপিআরএল) উদ্বোধন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৪ অক্টোবর) বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ল্যাবটির উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত গবেষণাগারটি দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গবেষণার জন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিইপিআরসির চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন (এনডিসি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী। এ ছাড়া ইইই অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান, শিক্ষক, গবেষক এবং বুয়েট ও বিইপিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার জানান, ২০২১ সাল থেকেই বিইপিআরএল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের মধ্যেও বুয়েট ও বিইপিআরসি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করে গেছে। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করাও এই গবেষণাগারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

ইইই অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশকে নিজস্ব গবেষণা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চয়, সঞ্চালন ও বিতরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার পাশাপাশি গবেষণা অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও তথ্য-উপাত্ত ভাগাভাগির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, বিইপিআরএলের কার্যক্রম শুধু একাডেমিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে হবে। শিল্প, কৃষি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে বুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিইপিআরএল প্রতিষ্ঠাকে বুয়েটের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। গবেষণাগারটির কার্যক্রম পরিচালনায় বুয়েট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। দেশের দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি সংকট ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারসংক্রান্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে বিইপিআরএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন (এনডিসি) একাডেমিক গবেষণাকে জাতীয় সমস্যার বাস্তব ও কার্যকর সমাধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গবেষণার সাফল্য শুধু আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার মাধ্যমে নয়; বরং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি দেশের সমস্যার সমাধানে কতটা কাজে লাগছে, তার ভিত্তিতেও তা মূল্যায়ন করা উচিত।

বিইপিআরএল প্রতিষ্ঠায় গত পাঁচ বছর ধরে বিইপিআরসি ও বুয়েটের সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে সরকার, শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বিইপিআরএল দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের গবেষকদের জন্য একটি উন্মুক্ত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে। গবেষণার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বিইপিআরএল প্রতিষ্ঠাকে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে ইইই বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং বিইপিআরএলের পরিচালক ড. শরীফ মোহাম্মদ মমিনুজ্জামান গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে গবেষণা ও পেটেন্টের হারের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কার্যকর প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্বে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিইপিআরএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিইপিআরএলের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রয়োগমুখী ও সহযোগিতামূলক গবেষণার জন্য নতুন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হলো। দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষাবিদ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গবেষণাগারটি দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই সমাধান উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন