বাংলা সাহিত্যের প্রসার এবং লেখকদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ও দৈনিক সমকালের যৌথ উদ্যোগে প্রদত্ত ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ ও ২০২৫’-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই বছরের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ২০২৫ সালের জন্য এ সম্মাননা পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’-এ প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ বিভাগে ‘বিদ্যাসাগর বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান সমাজ’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন আবুল আহসান চৌধুরী। কবিতা ও কথাসাহিত্য বিভাগে ‘সময় বহিয়া গেল’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। তরুণ সাহিত্যিক বিভাগে ‘জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন নিজাম বিশ্বাস।
অন্যদিকে, ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’-এ প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ বিভাগে ‘পালকের চিহ্নগুলো’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন নাসরীন জাহান। কবিতা ও কথাসাহিত্য বিভাগে ‘মানচিত্র’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন শাহীন আখতার। তরুণ সাহিত্যিক বিভাগে ‘সায়ানাইড ফুল’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন মাহবুব ময়ূখ রিশাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ, ব্যাংকটির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন এবং দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী। দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক লেখককে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ এবং কবিতা ও কথাসাহিত্য—এ দুই বিভাগে প্রত্যেক বিজয়ী পেয়েছেন তিন লাখ টাকা করে। তরুণ সাহিত্যিক বিভাগে বিজয়ীকে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। প্রত্যেক বিজয়ীকে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্রও প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের সাহিত্যিক, পাঠক ও প্রকাশকদের মধ্যে এ পুরস্কার ঘিরে আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি বিভাগে ২০২৪ সালের জন্য ৪৬০টি এবং ২০২৫ সালের জন্য ৫১০টি বই জমা পড়ে। সাহিত্যিক বেগম আকতার কামাল, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, কবি আবিদ আনোয়ার এবং প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড দুই বছরের প্রকাশিত বইগুলোর মধ্য থেকে সেরা বই নির্বাচন করে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, লেখক এবং পাঠকদের সাহিত্যের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে আমাদের এই পুরস্কার সমাজে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি আমাদের আরও কিছু করার দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এ পুরস্কারের মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষের মেধা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে কাজ করতে চাই।
ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, এই পুরস্কার ইতিমধ্যে দেশের সাহিত্যজগতে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে। এটি দেশের লেখক ও সাহিত্যিকদের, বিশেষ করে তরুণ লেখকদের অনুপ্রাণিত করছে। একই সঙ্গে পাঠকেরা পাচ্ছেন রুচিশীল বই পড়ার সুযোগ। দেশের তরুণ, উদীয়মান ও প্রতিভাবান লেখকদের সৃজনশীল কাজের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এ পুরস্কার। আমরা এই সাহিত্য পুরস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্বিত।
দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, সমকাল বরাবরই দেশীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করে এসেছে। আমরা মনে করি, ভালো সাংবাদিকতার চর্চায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বড় ভূমিকা রাখে। সমকাল সব সময় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নেবে।
টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, এই সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনই নয়, এটি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত যে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সবার সহযোগিতায় আরও বিস্তৃত হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


