প্রকৃতিই আমাদের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক’’ বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উপাচার্য, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
‘জলবায়ু পরিবর্তন, আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে পালিত এক বিশেষ বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণকে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতি কেবল আমাদের আশ্রয় নয়, আমাদের শিক্ষকও।
পৃথিবীর প্রতিটি বৃক্ষ, নদী, মাটি, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃতির এই ভারসাম্য নষ্ট হলে মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে পড়বে। উপাচার্য তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ইতোমধ্যে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন| গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, জল ও মাটি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি বার্তায় উল্লেখ করেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক এবং দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, সহাবস্থানই হতে হবে আমাদের উন্নয়নের দর্শন। আসুন, প্রকৃতি থেকে প্রেরণা নিয়ে জলবায়ু সুরক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


