জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আহতদের প্রতি সহমর্মিতা এবং বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’।
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ভার্চুয়াল ফটো কনটেস্ট, দোয়া ও মোনাজাত, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জুলাই শহিদদের স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল ফটো কনটেস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের আলোকচিত্রে উঠে আসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, দেশপ্রেম, গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয়।
বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপাচার্য, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর দুইজন শিক্ষার্থী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন গাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. আবু আশরাফ খান এবং রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা।
আলোচনা পর্বের ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। এসব পরিবেশনা শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং উপস্থিত সবার মধ্যে দেশপ্রেম, দায়বদ্ধতা ও আবেগের সঞ্চার করে।
পরে ভার্চুয়াল ফটো কনটেস্টে বিজয়ী সেরা তিন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগ কেবল ইতিহাসের একটি ঘটনা নয়, এটি আমাদের বিবেক, সাহস ও দায়িত্ববোধের চিরন্তন প্রেরণা। তাঁদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জ্ঞান, মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও সততাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মই বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ যেন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের আন্দোলনে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের জন্য তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সভাপতির সমাপনী ঘোষণার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


