মেক্সিকোতে সেটিস ইউনিভার্সিটির ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক প্যানেল আলোচনায় বিশিষ্ট প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেটিস ইউনিভার্সিটির মেক্সিকালি ক্যাম্পাসের ‘অডিটোরিও পাকার’-এ ‘শিক্ষার্থীদের সাফল্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানদের প্রতিশ্রুতি: আইএইউপি-এর অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানদের পরিবর্তিত দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
প্যানেল আলোচনায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কয়েকজন নেতা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্টস -এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, স্যান বার্নার্ডিনোর প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস টমাস ডি. মোরালেস, জর্জিয়ার ককেশাস ইউনিভার্সিটির রেক্টর কাকা শেনজেলিয়া এবং পেরুর ইউনিভার্সিদাদ সেনিয়র দে সিপানের রেক্টর আলেহান্দ্রো ক্রুজাতা।
সেশনটি সঞ্চালনা করেন ইউনিভার্সিটি অব লা ভার্নের প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্টসের (IAUP) প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস ডেবোরা লিবারম্যান।
আলোচনায় ড. মো. সবুর খান শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, উদ্যোক্তা-সুলভ মানসিকতা এবং নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও সুযোগ তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অর্জিত একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে অর্থবহ ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।
ড. সবুর খানের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ক্ষেত্রে ‘ডিগ্রির গণ্ডি পেরিয়ে’ চিন্তা করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা নয়; একই সঙ্গে নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টির সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনায় তিনি উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিকীকরণ শুধু আনুষ্ঠানিক চুক্তি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এর মাধ্যমে যৌথ প্রকল্প, উদ্যোক্তা উদ্যোগ, জ্ঞান বিনিময়, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ এবং দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক একাডেমিক সংযোগগুলোকে শিক্ষার্থী ও সমাজের জন্য বাস্তব ও অর্থবহ সুযোগে রূপান্তর করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সেটিস ইউনিভার্সিটির ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক প্যানেল আলোচনায় ড. মো. সবুর খানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


