যশোর বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৬’ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এ মহড়া আয়োজন করা হয়।
ICAO Standards and Recommended Practices (SARPs) এবং National Civil Aviation Security Programme (NCASP)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি দুই বছরে অন্তত একবার এ ধরনের নিরাপত্তা মহড়া আয়োজন বাধ্যতামূলক। এরই ধারাবাহিকতায় হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সক্ষমতা যাচাই ও সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়ার দৃশ্যপট অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (HSIA) থেকে Air Bangladesh Airlines-এর ফ্লাইট নং Air Bangladesh–247 যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বিমানে ১০ জন যাত্রী ছিল। উড্ডয়নের ১০ মিনিট পর যশোর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের কাছে একটি বেনামি ফোন কল আসে, যেখানে কলদাতা বিমানের ভেতরে বোমা রাখা হয়েছে বলে হুমকি দেয়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করা হলে কন্ট্রোল টাওয়ার Aviation Security In-Charge-কে জানায় এবং এয়ারপোর্ট ফায়ার স্টেশনকে স্ট্যান্ডবাই থাকতে নির্দেশ দেয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক Risk Advisory Group-এর সঙ্গে আলোচনা করে Full Airport Emergency ঘোষণা করেন এবং ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (EOC) সক্রিয় করেন।
পরবর্তীতে EOC বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন, আনসার, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিমসহ একাধিক সংস্থা।
মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। মহড়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নিরাপত্তা মহড়া সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করে এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল এবং সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতেও এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া তিনি জানান, যশোর বিমানবন্দরের নতুন বহির্গমন টার্মিনাল ভবন ও নতুন এপ্রোনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিদ্যমান রানওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বড় আকারের বিমান নিরাপদভাবে ওঠানামা করতে পারবে।
মহড়ায় বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

