মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ৫ম শরীয়াহ বোর্ডের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ৫ম শরীয়াহ বোর্ডের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন তাদের সব কার্যক্রম শতভাগ শরীয়াহসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনার অঙ্গীকার আরো সুদৃঢ় করতে ৫ম শরীয়াহ বোর্ডের বিশেষ সভার আয়োজন করেছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, মুফতি ও ইসলামি গবেষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রতিষ্ঠানটির নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে শরীয়াহভিত্তিক পরিচালনা কাঠামো, যাকাত ও অনুদান ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় আলেমরা জাকাত, সদকা ও অনুদান শরীয়াহর বিধান অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শরীয়াহ বোর্ডকে আরো কার্যকর করা, মানবসেবামূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আমানতদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত শরীয়াহ পর্যালোচনার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার মুফতি ইমাদুদ্দীন (হাফিজাহুল্লাহ), মুফতি ও সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম, ফরিদাবাদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাস্তুল ফাউন্ডেশনের শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান শায়েখ নূরুল ইসলাম বিন ইসমাঈল এবং বোর্ডের সদস্য মুফতি মুজাহিদ ইসলাম।

মুফতি ইমাদুদ্দীন বলেন, ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন শরীয়াহ বোর্ড সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। আমি এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। দেশে ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও শরীয়াহসম্মতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার যে উদ্যোগ মাস্তুল গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয়।’

তিনি আরো বলেন, “শরীয়াহর আলোকে পরিচালিত একটি মানবিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। এর মাধ্যমে দাতাদের আমানত যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।’

ড. মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সে জন্য আমি তাদের আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই। তাদের এই উদ্যোগের সঙ্গে আমিও শরিক থাকব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়মিত আত্মসমালোচনা, জবাবদিহি এবং শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান শায়েখ নূরুল ইসলাম বিন ইসমাঈল বলেন, ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিটি কার্যক্রম কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাই শরীয়াহ বোর্ডের মূল দায়িত্ব। আমরা চাই জাকাত, সদকা ও সাধারণ অনুদানসহ প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শরীয়াহসম্মত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হোক। এ লক্ষ্যেই শরীয়াহ বোর্ড নিয়মিত পরামর্শ, তত্ত্বাবধান ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মুফতি মাহমুদুল হাসান জামশেদ, বিভাগীয় প্রধান, ইফতা ও উলূমুল হাদিস বিভাগ, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী; মুফতি তারিকুল ইসলাম, শিক্ষক, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানীনগর, ঢাকা; মুফতি মাসুম বিল্লাহ, ডেপুটি মুফতি, আকবর কমপ্লেক্স এবং প্রতিষ্ঠাতা, এসএআরসি; মুফতি তাওহীদুল ইসলাম, ডেপুটি মুফতি, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মোহাম্মদপুর; মুফতি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, রিসার্চ ফেলো, মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা; ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রাব্বানী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; ড. হাবিবুর রহমান, পিএইচডি গবেষক, সৌদি আরব; মুফতি মাহমুদুর রহমান, মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস, জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল আমান, আদাবর; মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, ভাইস প্রিন্সিপাল, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা (মহিলা শাখা), টঙ্গী; ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; মুফতি আব্দুর রহমান আল হোসাইনী, মুফতি, জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর-১২; মুফতি মুহাম্মদ আউয়াল, উস্তাযুল ফিকহ, মারকাযুল বুহুস আল ইসলামি, মিরপুর; এবং মুফতি আশিকুর রহমান, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া।

সভা শেষে দেশ, জাতি, দাতা, উপকারভোগী এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শরীয়াহসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মানবসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন