অবিলম্বে র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্ত করা উচিত বলে মনে করেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জবানবন্দিতে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করার দরকার। সেটি সম্ভব না হলে র্যাব থেকে সামরিক সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমি আরো চাই, ডিজিএফআই বিলুপ্ত করা উচিত। এই সংগঠন আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দেওয়ার পর টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।’
জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে মনে করিয়ে দেওয়া হতো, আমি যা করছি তা বিদ্রোহের শামীল। আমার উত্তর একটাই ছিল, হাশরের ময়দানে আল্লাহর কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে।’
সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে পোস্টিং বন্ধ করায় আমি প্রতিনিয়ত অফিসার পোস্টিং করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ফোন পাই। চট্রগ্রামে হোটেল রেডিসন উদ্বোধন করার সময় শেখ হাসিনা পুলিশের সঙ্গে বৈঠককালে আমাকে ডেকে নেন এবং র্যাবে অফিসার দিতে বলেন।
আমি অফিসারের স্বল্পতার কারণে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। আমার অবসরের আগপর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকে এবং আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকি।
ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, র্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্ব থাকার সময়টা ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা আমাকে সব সময় আচ্ছন্ন করে রাখত। আজ সুযোগ এসেছে সেই না করতে পারা কাজটি সম্পন্ন করার। অনেকে ভাবছেন, আমি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান করছি।
এ ব্যাপারে আমার ব্যাখ্যা হলো, আমরা যতই অস্বীকার করি না কেন, সেনাবাহিনীকে কিন্তু কলুষিত করা হয়েছে। আমাদের উচিত হবে না আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ এসেছে তা কোনো অবস্থাতেই হেলায় হারানো।
এটা সেনাবাহিনীর গৌরবকে ক্ষুণ্ন করবে না বরং সেনাবাহিনীকে গৌরবের উচ্চশিখরে আসীন করবে। পুরো জাতি জানবে সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না। সেনাবাহিনীর গৌরব ও সাইনবোর্ডের আড়ালে অফিসারদের অপকর্মে যাওয়ার প্রবৃত্তি দূর হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

