চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৬ আদালতের বিচারক তাওহীদা আক্তার এই আদেশ দেন।
এদিন ডনের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী সফিউল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে নিশ্চিত করেন ডনের অপর আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম আসলাম।
জামিন আবেদনে ডনের আইনজীবীরা যুক্তি দেখান যে, সালমান শাহের মৃত্যুর দুটি সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং ভিসেরা ও রাসায়নিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। পাশাপাশি আসামি দীর্ঘকাল ধরে হাজতবাস করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ডন। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হলে সেদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। আদালত সিআইডিকে অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে সেই প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমানের বাবা রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সামীরা হক ছাড়াও মামলার অপর আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
মামলার এজাহারে বাদী মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সালমানের মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে জানতে পারেন সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত বাসায় ফিরে তারা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারীকে তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করতে দেখেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করলে পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরবর্তীতে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর বর্তমানে তার মামা আলমগীর এই মামলা পরিচালনা করছেন।
এদিকে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


