৯৩০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’-এর আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথিও জব্দের আদেশ দেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেয়।
এর আগে সূচনা ফাউন্ডেশন ও শম্ভুর আয়কর নথি জব্দ চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সূচনা ফাউন্ডেশন ২০১৫-২০১৬ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত মোট ৯৯ লাখ ৪ হাজার টাকা কর জমা না দিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। ভুয়া কর জমাসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সৃজন এবং অডিট প্রতিবেদনে আয়কর খরচ হিসেবে ওই অর্থ দেখিয়ে সরকারি ৯৯ লাখ ৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ফাউন্ডেশনটির নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জমা এবং ৪৬৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৯৩০ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফাউন্ডেশনের শুরু থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ যাবতীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন বলে জানায় দুদক।
অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা রয়েছে।
এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির আয়-ব্যয়ের সঠিকতা এবং তার মালিকানাধীন অন্য কোনো গোপন সম্পদ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য তার আয়কর নথি জব্দপূর্বক পর্যালোচনা করা আবশ্যক বলে আবেদনে উল্লেখ করে দুদক। শুনানি শেষে আবেদন দুটি পর্যালোচনা করে নথি জব্দের ওই আদেশ দেন বিচারক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


