বিলীন কৃষিজমি ও বসতভিটা

৫৭৩ কোটি টাকার কুশিয়ারা ডাইক: তবুও থামছে না নদীভাঙন

৫৭৩ কোটি টাকার কুশিয়ারা ডাইক: তবুও থামছে না নদীভাঙন
নদীভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ছবি: আমার দেশ

একসময় যেখানে ফলানো হতো সোনালি ফসল, আজ সেখানে বইছে কুশিয়ারা নদীর প্রমত্তা স্রোত। চোখের সামনেই নদীভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সহায়-সম্পদ।

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙন বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নবীগঞ্জের পাশাপাশি নদীভাঙনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নেও।

জানা গেছে, নদীভাঙন রোধে ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা নদীর ডাইক (বাঁধ) নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভাঙনকবলিত এলাকায় মিলছে না কার্যকর সুরক্ষা। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও অতি ঝুঁকিপূর্ণ জমি ও বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল কদ্দুছ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার এখানে তিন একর ফসলি জমি ছিল, যার পুরোটাই নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। সরকারিভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হলে আমরা ঠিকাদারকে মূল ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ও বস্তা ফেলার অনুরোধ করি। কিন্তু তাঁরা তা না করে শুকনো জায়গায় বস্তা ফেলার কথা বলেন। এভাবে কাজের নামে অবহেলা চলতে থাকলে আমাদের অবশিষ্ট জমি ও বাড়িঘর রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

আরেক কৃষক আ. হাদী বলেন, ‘শুধু ফসলি জমিই নয়, নদীভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে একের পর এক পরিবার। ইতিমধ্যেই এ এলাকার অন্তত ৫০০ পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আকুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও নানা অনিয়মের কারণে প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চলমান কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’

সাবেক ইউপি সদস্য ফখরু মিয়া ও মহসীন মিয়া জানান, দীঘলবাকসহ নদী তীরবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাঊবো) বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কাজ করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগের বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘শেরপুর ব্রিজ থেকে দীঘলবাক, পাহাড়পুর, মার্কুলী হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় কাজ পরিচালিত হচ্ছে। দীঘলবাকের সবকটি পয়েন্টে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে যেসব স্থানে কাজ শেষ হয়েছে, সেখানে নদীভাঙন রোধ করা গেছে। বাকি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে কাজ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

এদিকে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে বহু পরিবার বসতভিটা ও ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রটেকশন কাজ শুরু করা, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা আনা এবং টেকসই ডাইক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন কুশিয়ারা পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত বাসিন্দারা।

—এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন