আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জবানবন্দিতে এএসআই জাহাঙ্গীর

তাইমের শরীরে অসংখ্য গুলির ক্ষত চিহ্ন দেখতে পাই

স্টাফ রিপোর্টার

তাইমের শরীরে অসংখ্য গুলির ক্ষত চিহ্ন দেখতে পাই

জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যা মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানন্দিতে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ পুলিশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসাবে কর্মরত আছি। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের সময় ২১ জুলাই যোহরের নামাজের পর শহীদ তাইমের লাশ রাজারবাগ জামে মসজিদে নিয়ে আসা হয়। এরপর গোসল দেওয়ার জন্য লাশের শরীর থেকে জামা-কাপড় খোলা হয়।

বিজ্ঞাপন

এসময় লাশের শরীরে অসংখ্য গুলির চিহ্ন দেখতে পাই। আমরা উপস্থিত সকলে এসব গুলি শর্টগান থেকে করা হয়েছে বলে ধারণা করি। পরে জানাজা শেষে আমরা শহীদের লাশ তার বাবা ময়নাল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করি।

এদিন আরো দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আমাকে ঢাকা মেডিকেলে পুলিশ সদস্যদের বা তাদের পরিবারের কেউ আহত/নিহত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০ জুলাই আমার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ডিএমপির এডিসি (ওয়েলফেয়ার) ফোন করে জানান কল্যাণ ও ফোর্স বিভাগে কর্মরত এসআই ময়নাল হোসেনের ছেলে ইমাম হাসান তাইম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।

তিনি আমাকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। আমি ময়নাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পাই। এসময় তাইমের খালা আমাকে কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, সাংবাদিকের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন তাইম গুলিবিদ্ধ হয়ে সম্ভবত মারা গেছেন এবং তারা লাশ খুঁজে পাচ্ছে না।

জবানবন্দিতে দেলোয়ার বলেন, আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল মর্গ ও জরুরি বিভাগের পাশের মর্গে লাশ না পেয়ে নতুন ভবনের পাশে অবস্থিত অপর একটি মর্গের মেঝেতে লাশ দেখতে পাই। ময়নাল হোসেন তার ছেলের লাশ সনাক্ত করেন। সেখানে আরো ৬/৭ টি লাশ ছিল। তাইমের গায়ে শার্টের সবগুলো বোতাম খোলা ছিল। শার্টের রং ছিল সাদা-কালো চেক ও প্যান্টের বাম পায়ের ওপর থেকে প্যান্ট এর হাটুর ওপরের অংশ কাটা ছিল। তল পেটে, বুকে এবং দুই পায়ের হাটুর নিচে ও উপরে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই ।

এসব শর্টগানের পিলেটের জখম বলে আমার মনে হয়েছে। পরদিন ২১ জুলাই লাশের সুরতহাল করা হয়। আমি সুরতহাল প্রতিবেদনে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষর করি। লাশের গোসলের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। তাইমের কোমড়ের নীচে একটি বড় ক্ষত চিহ্ন দেখতে পাই যা আমাদের কাছে পিস্তলের গুলির চিহ্ন বলে মনে হয়েছে।

চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) নিজাম উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০ জুলাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যাই। সেখানে আগে থেকেই আমার শাখার সংরক্ষণ অফিসার এসআই দেলোয়ার হোসেন, শহীদের বাবা আমাদের ময়নাল হোসেন ও খালা উপস্থিত ছিলেন।

২১ জুলাই আনুমানিক সকাল ১০টার মধ্যে আমাদের উপস্থিতিতে শহীদ তাইম ভূইয়ার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। আমি সুরতহাল প্রতিবেদনে তৃতীয় সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন