অনলাইন অ্যাপ ‘টেলিগ্রামে’ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পৃথক দুই মামলায় আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন ডক শিপইয়ার্ড এলাকা ও মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার মো. ইমরান (৩২), নোয়াখালীর চরজব্বর এলাকার মো. ফাহিম (২৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল এলাকার আসাদুজ্জামান রাব্বি (২৫)।
সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের তদন্তে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে 'বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম' ও অন্যান্য আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত।
গ্রুপে আগে থেকে যুক্ত থাকা চক্রের সদস্যরা ভুয়া ও সাজানো পোস্ট দিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করত। প্রলুব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্টে অর্থ প্রেরণ করত। এসব একাউন্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা ছিল, যাদের অনেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
পল্টন থানার এক মামলায় গ্রেপ্তার ফাহিম এজাহার নামীয় ৫ নম্বর অভিযুক্ত। তার ব্যাংক একাউন্টে মামলার বাদী দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৬ টাকা পাঠায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফাহিমের ব্যাংক একাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করত ইমরান এবং এর মাধ্যমে তারা ৪৮ লাখ টাকা লেনদেন করেছে। ইমরানের মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষিদ্ধ বাইন্যান্স একাউন্টসহ ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।
অপর মামলায় গ্রেফতার আসাদুজ্জামান রাব্বি পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত মূলহোতা সাগরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সাগরের অনুপস্থিতিতে রাব্বি অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালনা করত। তার কাছ থেকে জব্দকৃত ডিভাইসে ভুয়া টেলিগ্রাম আইডির সন্ধান পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরো জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল ব্যবহার করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করত।
গ্রেপ্তারকৃত ইমরান ও ফাহিম এর আগে গাজীপুরের বাসন থানার আরেকটি প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছে। তাদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

