সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। তবে তিনি বিচারপতিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে কোনো পোস্ট দেননি বলে জানিয়েছেন।
সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম আলম ভুইয়া সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সর্বশেষ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভাষ্য, তিনি ফেসবুক পোস্টের কোথাও ‘প্রধান বিচারপতি’ শব্দটি ব্যবহার করেননি এবং কোনো নির্দিষ্ট বিচারপতির নামও উল্লেখ করেননি।
ইব্রাহীম আলম বলেন, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের দায়িত্ব পালনের সময় বাসাবাড়িতে কর্মরত এমএলএসএসদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া নিষ্পত্তির জন্য তিন সদস্যের একটি বিচারপতি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ওই কমিটির কাছে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে বাসাবাড়িতে কর্মরত এমএলএসএসদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি না দেওয়ার ফলে তাদের বাসাবাড়িতে দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি ছিল অন্যতম।
তার দাবি, বিচারপতিদের ওই কমিটি অভিযোগগুলো শুনে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত প্রতিবেদন দেয়। পরে সেই প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাসাবাড়ি থেকে এমএলএসএসদের প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ইব্রাহীম আলমের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুনরায় বিচারপতিদের বাসাবাড়িতে কর্মচারী পদায়নের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে একটি তালিকা তৈরির খবর ছড়িয়ে পড়লে কর্মচারীদের মধ্যে তখন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। প্রশাসনে সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশে গত ১২ এপ্রিল তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
নিজের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইব্রাহীম আলম বলেন, তদন্তে এমন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কাউকে আন্দোলনে প্ররোচিত করেছেন। আন্দোলনে অংশ নেয়া যেসব এমএলএসএসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তাদের লিখিত জবাবেও কোথাও তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তার প্রশ্ন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া কীভাবে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলো। তিনি আরও দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন ছিল ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এর আগে গত ৭ মে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রচার করে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন তিনি। যে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়, সেখানে গত ২৬ এপ্রিল তিনি বিচারপতিদের বাসভবনে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাসাবাড়িতে কর্মচারী পদায়নের সমালোচনা করেন।
চাকরিচ্যুতির আদেশ পাওয়ার পর দেওয়া সর্বশেষ পোস্টে ইব্রাহীম লেখেন, সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধি হিসেবে অনিয়ম, বৈষম্য এবং বাসাবাড়িতে কর্মরত পিয়নদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, তার প্রতি হওয়া এই অবিচারের বিচার তিনি দেশবাসী এবং মহান আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

