নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন: এক সপ্তাহে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা

নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন: এক সপ্তাহে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান ও সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।

বিএফএসএ সূত্রে জানা যায়, এই সময়ের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার মতো অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা ও দুটি মামলা দেওয়া হয়।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে পোড়া তেল ও অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও কীটপতঙ্গের উপস্থিতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা এবং তিনটি মামলা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও কিশোরগঞ্জে পৃথক সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরে দুটি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ এবং কিশোরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দেশজুড়ে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করেছে সংস্থাটি। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৮৮টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট ও গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন