মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ৫৭ কর্মকর্তাকে স্থায়ী করার নির্দেশনায় হাইকোর্টের রুল

স্টাফ রিপোর্টার

মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ৫৭ কর্মকর্তাকে স্থায়ী করার নির্দেশনায় হাইকোর্টের রুল

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীন 'মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)'-এর সাবেক উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসারদের স্থায়ী পদে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্টদের প্রতি দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম মাহিদুল ইসলাম সজীব।

রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংবিধানের ৫২(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ (সংশোধিত ২০১৭ পর্যন্ত)-এর ৩৩ বিধি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবরের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং আবেদনকারীদের স্থায়ী করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর স্থায়ী রাজস্ব কাঠামোর অধীনে 'উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা' পদে আত্তীকরণ ও পদায়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।

রিটকারী ৫৭ জন উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার জানান, ২০১৬ ও ২০১৮ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিয়োগ পান এবং দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের দাবি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ 'মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প'-এর আওতায় কাজ করে তারা দেশের নিরক্ষরতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

রিটে বলা হয়, প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হলেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকার ২০২০ সালে ৪৯১টি 'উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা' পদ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আবেদনকারীদের ওই পদে আত্তীকরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর সারসংক্ষেপ প্রেরণ করে।

তবে অভিযোগ করা হয়, ওই সারসংক্ষেপ যথাযথভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন না করে ফেরত পাঠানো হয়, যা আইন ও সংবিধানের পরিপন্থি।

রিটকারীরা আরও বলেন, সংবিধানের ৫২(২) অনুচ্ছেদ ও রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ (২০১৭ সালে সংশোধিত)-এর বিধি ৩৩ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী প্রধান হিসেবে এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তাদের একইভাবে রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ৩৫১টি পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের জন্য অন্তত ৫৭টি পদ সংরক্ষণ না করা হলে তাঁরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের স্থায়ী না করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের সমতা ও আইনের সমান আশ্রয়ের নীতির পরিপন্থি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন