উত্তরায় বাবার কাছ থেকে স্কুলছাত্রীকে অপহরণকারী রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার

উত্তরায় বাবার কাছ থেকে স্কুলছাত্রীকে অপহরণকারী রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার লামিন ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে আসামিকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক ফরিদউজ্জামান। শুনানিতে রিমান্ডের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মেয়েটা ১২ বছরের, অবুঝ কিছুই বোঝে না। তাকে জোর করে নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শহীদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করে বলেন, মামলাটি চাঞ্চল্যকর। ঘটনার আড়ালেও কিছু ঘটনা থাকে। অভিযোগে অপহরণ করেছে বলা হয়েছে। কিন্তু মেয়েটাই স্বেচ্ছায় ছেলেটার সঙ্গে দৌড়ে গেছে। যা ভিডিওতে দেখা গেছে। এটা একটা প্রেমের সম্পর্ক।

এ জন্যই গত জানুয়ারির ২৫ তারিখ ভিকটিম এই ছেলেটার সঙ্গে চলে গেছিল। আজকের আসামিকে সে মেয়ে ফোন দেয় যার রেকর্ড রয়েছে। যার রেকর্ড আসামিপক্ষ আদালতে শোনান। এটাকে প্রেমের ঘটনা বলে আদালতে দাবি করে আসামিপক্ষ। এটা কোনোভাবেই অপহরণ নয়। রিমান্ডের সুযোগ নেই। কারণ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. শরীফুল ইসলাম রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায় আসামি। ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও পরিকল্পিত ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামির নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল উত্তরা গার্লস স্কুলের পরীক্ষা শেষে মেয়ে জেরিন জামান তুবাকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন তার বাবা। বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের মোড়ে পৌঁছায় তারা।

এসময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা অপহরণকারী তাদের গতিরোধ করে। অপহরণকারীরা তুবার বাবাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার সামনে থেকে মেয়েকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। পরে দুটি মোটরসাইকেলের পাহারায় অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পর উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা কামরুজ্জামান। গত ১ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর দেড়টায় গাজীপুরের পূবাইল থানার কফু মার্কেট এলাকা থেকে লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় অপহারণকারী আসামির হেফাজত থেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন