দেড় দশকের শাসনামল ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে কি-না তা জানেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রোববার ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
আগের চিফ প্রসিকিটর বলেছেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছিল,এবিষয়ে অগ্রগতি কী-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিটর বলেন, এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো ধারণা নেই। কোনো তদন্ত চলছে কিনা, তা তদন্ত সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলতে পারবেন। এ নিয়ে আমার প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নেই।
দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয় শাপলাচত্বর গণহত্যায় ২ জন সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আপনারা গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন। বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আমিনস্ট ইন্টার্নেশনাল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিটর বলেন, দুই সাংবাদিককে আমাদের ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। অ্যামনেস্টি কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার এখতিয়ার। তাদের কাজ করতে দেওয়াই উচিত। এখন কোনো সংস্থা, অ্যামনেস্টি হোক বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠন কারও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
এ মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। আমি আগেও বলেছি, যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে না।
ঈদের ছুটির পর ২ মামলার রায়
ঈদের পর তথা আগামী জুনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, আমাদের ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২২টি মামলার বিচার চলমান রয়েছে। রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে দুটি মামলা। আশা করি ঈদের পরই এসব মামলার রায় হয়ে যাবে। ৩১টি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা গুম-খুন এবং ক্রসফায়ারের ১৫০টি মামলার তদন্ত হাতে নিয়েছি। এরই মধ্যে এসব কাজ শুরু হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবে নরসিংদী, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, রাজশাহীসহ দেশের যেসব স্থানে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেসব মামলার তদন্ত আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
এক্ষেত্রে আমরা তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের প্রসিকিউশন টিমকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ তদন্তের ব্যবস্থা করেছি। আশা করি খুব দ্রুতই এসব প্রতিবেদন দিয়ে আমরা বিচারের পর্যায়ে নিতে পারবো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

