বিপ্লবের শেষ মুহূর্তে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন গাড়িচালক উবাইদুল হক। ওই দিন কাকরাইল নাইটএঙ্গেল মোড়ে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। এ পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়ে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ হন উবাইদুল।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শহীদ উবাইদুলের বোন রোকসানা আক্তারের জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে আসে।
জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে রোকসানা বলেন, আমার ভাই উবাইদুল হক পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন। সে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়। সে ১৪-১৫ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ১৯ জুলাই ও ২০ জুলাই আমার ভাই আন্দোলনে যোগ দেয়। তখন সে জানায়, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে অনেক মানুষ নিহত হয়। তখন তাকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করলে সে গোপনে আন্দোলনে যেত।
তিনি বলেন, ৪ আগস্ট সকাল ১০টায় আমার ভাই অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মীসহ নয়াপল্টনে বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে আন্দোলনে যোগ দেয়। ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে কাকরাইল নাইটএঙ্গেল মোড়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ভাইয়ের কপালে, হাতে আঘাত করে। ডান পায়ের গোড়ালিতে কোপ দেয়, তখন তার পায়ের রগ কেটে যায়। পিঠের ডান পাশেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তারা। পরে আমার ভাই অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলে লোকজন তাকে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমার ভাইয়ের ফোন থেকে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কল এলেও আমি ঘুমিয়ে থাকায় ফোন ধরতে পারিনি।
শহীদের বোন বলেন, পরে ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে মিসড কল দেখে ফোন দিলে একজন ধরে জানান, আন্দোলনে গুরুতর আহত হয়েছে। সে ঢাকা মেডিকেলে আছে। আমি ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের আইসিইউতে আমার ভাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। চোখ দুটি কালো হয়ে ফুলে গিয়েছিল। কপালে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। মেডিকেলের ফ্লোরে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ লাশ ও আহত ব্যক্তিদের দেখতে পেয়েছিলাম। ফ্লোর রক্তে ভেসে গিয়েছিল। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ আগস্ট আমার ভাই শহীদ হয়। আমি আমার ভাইসহ যারা শহীদ হয়েছে, তাদের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


