ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (অব.) খন্দকার গোলাম ফারুক এবং তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে খন্দকার গোলাম ফারুকের ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৫টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া খন্দকার গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের যৌথ নামে থাকা ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি এবং দুটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকার সম্পত্তি রয়েছে।
এর আগে দুদকের পক্ষ থেকে তাদের স্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে বলা হয়, খন্দকার গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র, বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য ও আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে দায়বাদে নিট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকাসহ অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অর্থাৎ তাঁর আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা বেশি, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, খন্দকার গোলাম ফারুকের স্ত্রী শারমিন আক্তার খান একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৩ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকাসহ অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ মাত্র ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে তাঁর আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বেশি, যা সম্পূর্ণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ।
অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা যাতে এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রয় বা অন্য কোনোভাবে গোপন বা বিলুপ্ত করতে না পারেন, সে জন্য আদালতের কাছে স্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার আবেদন জানায় দুদক। শুনানি শেষে আদালত শুনানি গ্রহণ করে তাঁদের নামে থাকা সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের এই আদেশ দেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


