সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আপস-মীমাংসা করেছেন নিহত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আপস-মীমাংসার পর কারাগারে থাকা প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলেও জামিন পাননি গাজী নজরুল।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের পক্ষে হলফনামা দেন মরিয়মের বাবা। পরে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান নজরুল ও তার স্ত্রীর জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নজরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত। একইসঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে, গত সোমবার দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয় গাজী নজরুলকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় মাঝেমধ্যে রাত কাটাতে হতো।
মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছিল পুলিশ।
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।
পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার রুমে কিছু চিরকুট পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিনই নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


