এটিএম আজহার

দুমাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার

দুমাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে সরকার

জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ও রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে। যে ইস্যু সংসদে সমাধান হওয়া উচিত, সেটিকে রাজপথে আনা উচিত নয়। ফলাফলে কারচুপি করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন এটা আপনারাও জানেন, জনগণও জানে। গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করবেন না।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কতা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ আইনের কাছে গিয়ে বিচার পায়, সম্মান পায়; কিন্তু আমি সেখানে অসম্মানিত হয়েছি, অবিচারের শিকার হয়েছি। আমরা সংসদে লড়াই করব, এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেও আন্দোলন গড়ে তুলব। এ ক্ষেত্রে বার সমিতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা জুলাই শহীদের মাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করিয়ে জুলাইকে সংসদে নিয়ে যাচ্ছি, আর একটি দল ফ্যাসিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন ব্যক্তিকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাচ্ছে।

গণভোট ইস্যুতে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) ৭০% জনগণের রায় গণভোটকে বাতিল করে টানেল ও বাঙ্কার নির্মাণ করে প্রমাণ করছে জনগণের আস্থার জায়গায় তারা যেতে পারবে না। দুই মাসে লক্ষ করেছি, সরকার পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং নব্য ফ্যাসিবাদকে স্থানান্তর করছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের পরে এই বাংলাদেশ অতীতে কখনো কল্পনা করা যায়নি। যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাই হয়েছিল, সেটি নিছক ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনের জন্য ছিল না। বাংলাদেশকে আমূল বদলে দেওয়ার জন্যই জুলাই হয়েছিল। আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে বিচারকরা এক্সিকিউটিভের কাছে মাথা নত করবে না।

সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না হলে এবং আইনজীবীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য না হলে সমাজের মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ছিল, এই সরকার তাদের জুলাই সনদে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না থাকলেও তা বাতিল করেছে। আমরা রিট করেছি; আজ তিনটি আপিল ফাইল হয়েছে। আমরা এই সচিবালয়ের স্থিতাবস্থা চেয়েছি। আমরা বিজয়ী না হলে আগামী পাঁচ বছরে ন্যায়বিচার বলে কিছু থাকবে না।

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জনগণ জিম্মিদশা ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্তি চায়। তারা চায় তাদের ভোটটা রক্ষা হোক। জাতীয় নির্বাচনে অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা বা যেকোনো কারণে আমরা ভোট রক্ষা করতে পারিনি। উপনির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কারচুপি হলে ভোট হবে না, কিন্তু ভোটকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা প্রয়োজনে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াব, আপনাদের সাহস দেব, কিন্তু ভোট বর্জন করা যাবে না।

ল'ইয়ার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির পর এই প্রথম ঢাকা বারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভূতপূর্ব খেলা হয়েছে। সরকার গঠনের পর তারা অগণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ঢাকা বারের নির্বাচন কমিশন যেভাবে গঠন হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা বার ইউনিটের সভাপতি আব্দুর রহমান মুসাসহ জামায়াত ও এনসিপির নেতারা।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে এবার বিএনপি ও সমমনা দলগুলো জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) ও জামায়াত-এনসিপি সমর্থিতরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের (সবুজ প্যানেল) ব্যানারে অংশ নিচ্ছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন