সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নির্বাচন শুরু হচ্ছে আজ। দুই দিনব্যাপী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বুধ ও বৃহস্পতিবার। এবারের নির্বাচনে থাকছে কিউআর কোডযুক্ত ব্যালট, ভোটার ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল গণনা। তবে নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের পদচারণে সুপ্রিম কোর্ট সরগরম হলেও সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে এবার আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে।
এ নির্বাচনে মূলত তিনটি আইনজীবী প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্যানেল তিনটি হলো বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল। উচ্চ আদালতের ইতিহাসে এই প্রথম আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪ পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পদগুলো হলো— একজন সভাপতি, দুজন সহসভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক এবং সাতজন সদস্য। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দুটি সহসভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, দুটি সহসম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাতটি সদস্যপদে প্রার্থীরা হলেন— এ কে এম আজাদ হোসেন, এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া এবং ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী।
ফোরামের সভাপতি পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আমার দেশকে বলেন, ‘সব সময় আইনজীবীদের সঙ্গে ছিলাম, আগামীতেও থাকব। অহংকার করে কোনো কথা বলতে চাই না। তাই বিগত কিছুদিন কোনো টকশোতেও যাইনি। তবে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আইনজীবীরা আবার আমাদের সমর্থন দেবেন।’
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সবুজ প্যানেলে সভাপতি পদে আছেন আবদুল বাতেন, দুটি সহসভাপতি পদে আব্দুল হক ও মইনুদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম জাহাঙ্গীর আলম, দুটি সহসম্পাদক পদে মো. তারিকুল ইসলাম ও যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া। এই প্যানেলের সাতটি সদস্যপদে প্রার্থীরা হলেন—অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মো. ফয়েজউল্লাহ, মো. জুবায়ের টিটু, মাহমুদুল হাসান এবং মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন লিংকন। ল ইয়ার্স কাউন্সিল জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন। সবুজ প্যানেলের সম্পাদক পদপ্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, ‘আমাদের ১০ দলীয় জোটের পুরো প্যানেলের সবাই যোগ্য প্রার্থী। ভোট যদি ছিনতাই না হয়, তাহলে আমরা সাধারণ আইনজীবীদের সমর্থন নিয়ে পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হব বলে আশা করছি।’
অন্যদিকে এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের লাল-সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন—সম্পাদক পদে আজমল হোসেন বাচ্চু, সহসম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফী এবং সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বনি আমিন ও মাজহারুল ইসলাম ।
এনসিপির লাল-সবুজ প্যানেলের সম্পাদক পদপ্রার্থী আজমল হোসেন বাচ্চু আমার দেশকে বলেন, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন বারে নিম্ন আদালতে আইনজীবীদের নির্বাচনগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় এবার সাধারণ ভোটারদের মাঝে এ নির্বাচন নিয়ে সংশয় আছে। বিএনপিপন্থি প্যানেলে সঠিক প্রার্থী সিলেকশনে মতবিরোধ থাকায় ভোটারদের অনাগ্রহের এটিও একটি কারণ।
তিনি জানান, নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ভোটের শুদ্ধতা নিশ্চিতে এবার বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ব্যালট পেপার, ভোটার ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক সহায়তায় ভোট গণনার ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রচারে তেমন স্থান পায়নি। তাই সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রচার চালাতে হবে।
এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন—সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান এবং সদস্য পদে মো. জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস।
এর আগে গত সোমবার নির্বাচনসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রার্থী পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৮ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয় এবং ওই দিনই বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এমবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

