এগারো বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীররে আদলাত এ আদেশ দেন। এ মামলায় বাদি পক্ষের আইনজীবী এস এম পিয়ারুল ইসলাম নাসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায় এমডি শফিকুর রহমান। তবে এদিন ওই বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রশিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এদি রিমান্ড শেষে সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী সুফিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিচারকের খাসকামরায় নেওয়া হয়। এ সময় আসামি সাফিকুর দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে অপর আসামি সুফিয়া জবানবন্দি দেন। পরে দু'জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে গ্রেপ্তারের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুরের পাঁচ দিন ও তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ওইদিন গৃহকর্মী রুপালি খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি বিথী রিমান্ডে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নং সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানায় ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খুঁজতেছে। পরে তাদের সঙ্গে দেখা করে গত বছরের জুন মাসে মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তার বাবা। তবে এরপর আর মেয়েকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি আসামিরা।
গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।
তখন মোস্তফা দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম। সে ভালোভাবে কথাও বলতে পারেছে না। বিথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারে না সে। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর মোস্তফা তার সঙ্গে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিট করে।
তারা তাকে খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

